মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পটুয়াখালীতে প্রগতি লেখক সংঘের কবি আড্ডা অনুষ্ঠিত গলাচিপায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আহসানুল হক তুহিন পুনরায় নির্বাচিত খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং বিএনপির লোকেরাই করতে পারে : কাদের নৌকার বিপক্ষে একটা ভোট গেলে লাশ পড়বে ৫টা, ছাত্রলীগ নেতার হুমকি জয়পুরহাট-সহ উত্তরের জেলা গুলোতে জেঁকে বসেছে শীত ও ঘন কুয়াশা! নওগাঁয় ভোটের মাঠে চেয়ারম্যান পদে পঞ্চমুখী লড়াই  ডিমলা উপজেলার কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী  গলাচিপা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর সমর্থনে কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগের জনসংযোগ।  লক্ষ্মীপুরে বাবা চেয়ারম্যান, চার ভাইবোন হতে চান মেম্বার ‘মু‌জিব কোট খুইল্লা ও‌সিরে গুতাই‌ছি’
ঘোষণা :

জয়পুরহাটে নবান্ন উৎসবে জামাইদের নিয়ে মাছের মেলা

মোঃ জহুরুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ-জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পাঁচশিরা বাজারে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে জামাইদের নিয়ে বসে মাছের মেলা। সুন্দর করে সাজানো  সহ হরেক রকমের মাছ।

ভোর থেকে বছেসে সারি সারি মাছের দোকান। চলছে হাঁকডাক ও দর- দাম। মাছের মেলায় ৪ কেজি থেকে শুরু করে ৪০ কেজি ওজনের মাছ। লোকজনও ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে কিনছেন ওইসব মাছ। আবার দেখতে এসেছেন অনেকেই। এই মাছের মেলায় শুধুই মাছ কেনার বিষয় নয়, আছে একধরনের প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা জামাইদের। কোন জামাই কত বড় মাছ কিনলেন, সেটাই আসল বিষয়। প্রতিযোগিতায় নীরব অংশগ্রহণ করে শ্বশুরেরা। পঞ্জিকা অনুসারে অগ্রহায়ণ মাসের পহেলা বৃহস্পতিবারে উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে একদিনের জন্য বসে প্রায় শতবছরের এই মাছের মেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে শত-শত মানুষ উৎসব দেখতে আসেন। এ দিনটিকে ঘিরে এখানে দিনব্যাপী চলে মাছ ক্রয় ও বিক্রিয়ের উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে প্রতিটি বাড়িতেই মেয়ে- জামাইসহ স্বজনদের আগে থেকেই দাওয়াত দেওয়া হয়।

                                                   বদলগাছীতে সুই সুতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ তোষক কারিগররা

এ রকম আরও সংবাদ পড়ুন::-জয়পুরহাটে ২৮ বছর থেকে ইঁদুর ধরে জীবিকা নির্বাহ, পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার পাঁচশিরা বাজারে মাছ নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। মেলায় উঠেছে বিরাট বিরাট সব মাছ। শতাধিক দোকানে এসব মাছের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। দূর-দূরান্তর থেকে দলে দলে লোকজন মেলায় এসেছেন মাছ কিনতে। খালিহাতে ফিরছেন না কেউ। সবাই সামর্থ্য অনুযায়ী মাছ কিনে খুশিমনে বাড়ি ফিরছেন। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রাম-মহল্লায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। নাইওর এসেছেন মেয়ে ও জামাই। নিমন্ত্রণ করা হয়েছে আত্মীয়-স্বজনকেও। মেলায় মাছ ব্যবসায়ী রেজাউল প্রায় ৪০ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ এর দাম হাকায় ৫০ হাজার টাকা। মেলা দেখতে এসে ক্ষেতলাল উপজেলার দেওগ্রামের মোছাঃ মনয়ারা বেগম সখের বসে একটি ১৫ কেজি ওজনের রুই মাছ কিনেছেন ১০ হাজার টাকায়। শুধু এ মেলায় কাতলা, রুই মাছ নয়। বিক্রেতারা ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের মাছেরও দাম হাকায় ৩০/৩৫ হাজার টাকার উপরে। মেলায় ২০ কেজি ওজনের একটি হিগহেড মাছের দাম হাকায় ১৫ হাজার টাকা। বড় গ্রাসকার্প ১৩/১৪ হাজার টাকার ও ৯/১০ হাজার টাকা মূল্যের বেশ কিছু কার্প, কালবাউশ, মাছও উঠে মেলায়। একটি বড় সিলভার কার্প মাছের দাম হাকানো হয় ১৮ হাজার টাকা। মাছ বিক্রেতারা মানুষজন মাছের দাম হাকাচ্ছেন, মাছ ক্রেতারা কিনছেন, আবার কেউ-কেউ সেলফি তুলতেও ব্যস্থ। শুধু সেলফি তুলেই শেষ নয়, মাছ মেলার ছবি দিয়ে কেউ-কেউ আবার ঝড় তুলছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

এই মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসেছিল এই মেলায়। মেলা উপলক্ষে যেন এলাকায় ঈদের আনন্দ বিরাজ করছিল। মেলায় মাছ বিক্রেতা রেজাউল ইসলাম ও নাইম হোসেন বলেন, প্রায় দশবছর ধরে প্রতি বছরই এ মেলায় মাছ নিয়ে আসি। জামাইদের এই মাছের মেলার জন্য এলাকার বিভিন্ন পুকুর ও নদী থেকে মাছ সংগ্রহ করে নিয়ে আসি এখানে। এ মেলাকে লক্ষ্য করে চলে আমাদের মাছ ধরার উৎসব। বাজারের তুলনায় মেলায় মাছের দাম বেশি হলেও সবাই আনন্দের সঙ্গে মাছ কেনেন। মেলায় মাছ কিনতে আসা মোঃ জবায়দুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলাম নামে দুই জামাই বলেন, এই মেলায় বড়-বড় মাছ দেখে অনেক খুশি লাগছে। তবে অন্য বছরের চাইতে এবার মাছের দাম একটু বেশী। তবে যাই হউক না কেন আমরা এই মেলা থেকে ৩৬ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ ৪৩ হাজার টাকায় এবং ২০ কেজি ওজনের একটি ব্রিগহেড মাছ ক্রয় করেছি। কিনে নিয়ে শশুর বাড়ি যাচ্ছি। এই মেলা সম্পর্কে কালাই পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক তোফিকুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, এই মাছের মেলাটি প্রায় শত বছর ধরে এ অঞ্চলের ঐতিহ্যের ধারক। মেলায় বেচাকেনা যতই হোক না কেন, এ মেলা আমাদের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে বহন করছে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।

 

কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, এই মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আর এই মেলাকে লক্ষ্যে করে স্থানীয় বড় মাছ ব্যবসায়ীরা ও মাছ চাষিরা বিভিন্ন এলাকা থেকে সপ্তাহখানেক ধরে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করে থাকেন। মেলায় কেউ যেনো বিষাযুক্ত মাছ বিক্রি করতে না পারে সেদিকে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে।



All Bangla Newspaper
ফেসবুকে আমরা
error: Content is protected !!