শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোষণা :

জয়পুরহাটের খাদ্যগুদাম গুলোতে ধান বিক্রিতে আগ্রহ নেই কৃষকের!

সদর, পাঁচবিবি, কালায় ও ক্ষেতলাল উপজেলায় আমন মৌসুমে খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহ নেই অনেক কৃষকের।

মোঃ জহুরুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি::- জয়পুরহাট সদর, পাঁচবিবি, কালায় ও ক্ষেতলাল উপজেলায় আমন মৌসুমে খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহ নেই অনেক কৃষকের।

যথা সময়ে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতে না পারলে উপজেলায় সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাহত হবে। সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রিতে কৃষকের আগ্রহ না থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় আছেন গুদাম কর্মকর্তারা। ধান ক্রয়ের জন্য গুদাম কর্তৃপক্ষ নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে লিফলেট বিতরন, মাইকিং ও মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কৃষকদের উৎসাহী করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবুও কৃষকদের থেকে সাড়া মিলছেনা।

সরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা কোন ভোগান্তি ও অভিযোগ ছাড়াই সরাসরি কৃষকদের থেকে ধান কিনতে “কৃষকের অ্যাপে” লটারীর মাধ্যমে পাঁচবিবি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১৪৯ জন কৃষককে নির্বাচিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। লাটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের মধ্য থেকে ৩ টন ধান সংগ্রহের মধ্যদিয়ে গত (২৪ নভেম্বর) উপজেলায় ধান চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে আর ১ মণ ধানও সংগ্রহ করতে পারেন নাই বলে জানান পাঁচবিবি খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ।

জয়পুরহাট এর পাঁচবিবি উপজেলা খাদ্যগুদাম সূত্রে জানাযায়, এবছর চলতি মৌসুমে ২৭ টাকা দরে ১৩শ’ ১৭ মেঃটন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। জয়পুরহাট এর পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা গ্রামের শ্রী বকুল চন্দ্র ও ঢাকারপাড়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া ধানের দামের থেকে খোলা বাজারে ধানের দাম একটু বেশি পাওয়ায় মূলত কৃষকরা খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহী নন। তাছাড়া খাদ্যগুদামে ধান দিতে গেলে ধানের আদ্রতা ও পরিবহন ভাড়াসহ অন্যান্ন ঝামেলাও পোহাতে হয়। সদর উপজেলার ধানমুন্ডি বাজারের আড়তদার জোব্বার রহমান বলেন, আজকের বাজার অনুযায়ী গুটি স্বর্ণা ধান ১ হাজার ৩০ টাকা ও স্বর্ণা-৫ জাতের ধান ১ হাজার ৯০ টাকা প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে।

জয়পুরহাট এর পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. লুৎফর রহমান বলেন, এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় উপজেলায় ২০ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে ৯৫ হাজার ৩৬০ মেট্রিকটন ধান চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। পাঁচবিবি উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, কৃষকেরা যেন সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে আগ্রহী হন। এই কারনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং, লিফলেট বিতরন ও নির্বাচিত কৃষকদের মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা হচ্ছে। সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে কৃষকদের উৎসাহী করছি। আমরা সর্বাত্তক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে, ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়।



All Bangla Newspaper
ফেসবুকে আমরা
error: Content is protected !!