শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঈদকে সামনে রেখে সাড়ে ৫শত দরিদ্র মানুষের মাঝে শাড়ী লুঙ্গি বিতরণ করলেন রুপপুরের বকুল যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরির কারখানায় অভিযান, ৫ লাখ টাকা জরিমানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনার চিঠি জয়পুরহাটে গণপরিবহন চালুর দাবিতে শ্রমিকদের ০৩ দফা কর্মসূচী নাটোরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ন্যায্যমূল্যে তরমুজ বিক্রির উদ্বোধন আমতলীতে সরকারী সম্পত্তি দখলে মেতে ‍উঠছে ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া  পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেলো  অটোভ্যান চালকের ৩দফা দাবিতে পাবনা জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ মিছিল পালিত দুমকিতে অগ্নিকান্ডে ৩টি পরিবার নিঃস্ব নাটোরে শ্রমিক দিবস পালিত
ঘোষণা :

জয়পুরহাটে কৃষকের মাঝে দিন-দিন পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে

জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ-জয়পুরহাট জেলার কৃষকের মাঝে লাইফ পার্চিং ও ডেথ পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখানকার কৃষকরা কীটনাশকের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক এ পদ্ধতি প্রয়োগে করে সুফল পাচ্ছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমছে অন্যদিকে ক্ষেতে রোগ বালাই কম হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করছে।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলা সদর-সহ জেলার আক্কেলপুর ক্ষেতলাল পাঁচবিবি কালাই উপজেলার প্রায় ৬৭ হাজার ৫২৮হেক্টর জমিতে বােরাে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার প্রায় ৪৫% জমিতেই পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। জয়পুরহাট জেলার মাঠ গুলোতে এখন সবুজের সমারোহ। বাতাসে দোল খাওয়া ধানক্ষেতের অপার সৌন্দর্য কৃষকের মনকে উদ্বেলিত করেছে। কৃষকরা এবার কীটনাশক এর পরিবর্তে ধানক্ষেতে লাইফ পার্চিং ও ডেথ পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এ পদ্ধতির জন্য কৃষকরা বিঘা প্রতি জমিতে ৮-১০টি ধনচের গাছ লাগিয়ে পাখি বসার ব্যবস্থা করে দেন এবং ডেথ পার্চিংয়ের জন্য প্রতি বিঘা জমিতে ৮-১০টি মরা ডাল পুঁতে দিয়ে পাখি বসার ব্যবস্থা করে দেন। ফলে ঝামেলা মুক্ত এই পার্চিং পদ্ধতি প্রয়োগে করে স্থানীয় কৃষকরা এর সুফল পেতে শুরু করেছে।

ধনচে গাছ দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় এর ডালে বসে পাখি সহজেই ধানের মাজরা, ফুতিসহ ক্ষতিকর পোকাগুলো খায়। ফলে পোকার বংশ বিস্তার রোধ হয়। অধিকন্তু, ধনচে গাছ জমিতে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে জমির উর্বরতা বাড়ায়। ডেথ পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করেও ক্ষেতে রোগ-বালাই মুক্ত রাখা যায়। ডেথ পার্চিং এবং লাইফ পাচিং দুটোই জৈবিক বালাই দমন পদ্ধতি হওয়ায়, জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। এ পদ্ধতিগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ভুমিকা পালন করে। জয়পুরহাট জেলায় ধানের জমিতে থোর আসতে শুরু করেছে। অধিকাংশ জমিতে শীষও দেখা দিয়েছে। সবুজ ধান গাছ মৃদু বাতাসে দুলছে। সেই সাথে বাম্পার ফলনের স্বপ্নে দুলছে কৃষকের মনে। বর্তমানে ধান ক্ষেতে রোগবালাই কম আবাদও ভালো হয়েছে। এ কারণেই কৃষকরা বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছে। ক্ষেতের পোকামাকড় দমনে পার্চিং নামক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সুফল প্রাপ্তি ইতোমধ্যে কৃষকদের মাঝে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। আগামীতে ধান ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা-মাকর দমনে জৈবিক বালাই ও এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ বৃদ্ধি পাবে এমন আশা কৃষি বিভাগের।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার তেঘর বিশা গ্রামের মোঃ মকুল হোসেন ,পারুলিয়া গ্রামের কৃষক তজুমুদ্দিন হারুনুর রশিদ ,ইউসুফ আলী ও ফজলুর রহমান ক্ষেতলালের কসম শহর গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন আজিম উদ্দিন পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা রসুলপুর গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান ও কালাই উপজেলার জিন্দারপুর গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান আক্কেলপুর উপজেলার হান্তাবসন্ত গ্রামের কৃষক মুজিবুর রহমান ও আব্দুল খালেক সহ অনেকে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শে চলতি বোরো মৌসুমে তারা জমিতে কীটনাশকের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লাইফ ও ডেথ পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগ-বালাই দমন করেছেন। এতে তারা বেশ সুফলও পাচ্ছে। পাখিরা ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলায় বর্তমানে তাদের বোরো ক্ষেতে রোগ-বালাই কম। আর কীটনাশক ব্যবহার না করাতে এবার তাদের অনেক টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শ.ম মিফতাহুল বারি বলেন, কম খরচে বোরো ধানের বাম্পার ফলন নিশ্চিৎ করতে কীটনাশকের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডেথ পার্চিং ও লাইফ পার্চিং ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করণে চাষী পর্যায়ে আমরা নিয়মিত চাষীসভা, উঠোন বৈঠক, ব্যাক্তিগত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। কীটনাশক ব্যবহার না করেও যে ধানের বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব, তা কৃষকদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিচ্ছেন কৃষি বিভাগ। কম খরচে বেশি ফলন পাওয়ায় এবং কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব মুক্ত পরিবেশ পাওয়ায় আগামীতে লাইফ পার্চিং এবং ডেথ পার্চিং পদ্ধতিতেই কৃষকরা চাষাবাদ করবে বলে আমার বিশ্বাসি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা

Archives

error: Content is protected !!