বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোষণা :

বর্তমানে নারী !

বাংলাদেশের বাসাবাড়িতে কাজ করেন এমন “বুয়া”দের প্রায় ৩০-৪০ শতাংশই স্বামী পরিত্যাক্তা। হয় স্বামী কোন নোটিশছাড়াই নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে, তালাক দিয়েছে কিংবা তালাক ছাড়াই অন্যত্র বিয়ে করে দিব্যি সুখে-শান্তিতে ঘরসংসার করছে। অন্যদিকে এসব নারীদের তখন ঘাড়ে এক, দুই বা ততোধিক সন্তানের বোঝা।

এই নারীদের বাকি জীবনটা কাটে ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে করতে। শতাংশের হিসেবটা আমার ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের বেসিসে বলা, অন্যদের সাথে বেমিল হতেই পারে। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি যে সংখ্যা আর পার্সেন্টেজটা যথেষ্টরকমের প্রমিনেন্ট।

অথচ এই বিশেষায়িত ক্যাটেগরির বিপুল সংখ্যক নারীকে নিয়ে ভাববার মানুষ একেবারেই কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব নারীরা শ্বশুড়বাড়ির সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়। আর শিক্ষাদীক্ষা না থাকায় অনেকেই কোন প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমের সাথে যুক্ত হতে পারে না। শেষ সম্বল হিসেবে যুক্ত হন বাসাবাড়ির কাজে। বাকি জীবনটা কাটে এভাবেই৷ অথচ এরকম একটা অসভ্য আচরণ সমালোচনা হয় খুবই কম।

বাংলাদেশে থাকতে ভ্যাকেশনে গ্রামাঞ্চলে ঘোরার সময় টুকটাক ওয়াজ শোনা হয়েছে, গ্রামের এসব জায়গায় বেশিরভাগের মুখেই নারীদের ব্যাপারে প্রচুর সমালোচনা শুনলেও স্পেসিফিকভাবে পুরুষদের এরকম বৌ ফেলে চলে যাওয়া, সন্তান-সন্ততি ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করা, সন্তান-সন্ততির দায়িত্ব ও ভরনপোষণের দায়িত্ব নেয়ার ফরজিয়াত নিয়ে আলোচনা খুব কমই শুনেছি, এভাবে পরিবারকে ছেড়ে দেয়া যায় না এরকম হুশিয়ারি খুব কম মানুষকেই দিতে দেখেছি।

গ্রামীণ সমাজে তাদের প্রভাব কিন্তু যথেষ্টই! ইন ফ্যাক্ট সভ্য সমাজের নানারকম থিউরী আর বাদ কপচানো মানুষকেও এসব নিয়ে কমই কথা বলতে দেখেছি। সবাই চটকদার আলাপ খোজে। অথচ এই সমস্যাটা এতখানি প্রকট খানিক চোখ বুলালেই টের পাওয়া যায়। খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন, আপনার বাসার কিংবা আপনার পাশের ফ্ল্যাটের কোন কাজের “বুয়া”র জীবনটা ঠিক এইরকমভাবেই কেটেছে।

আমি নারীবাদ বা পুরুষবাদ কোন টক্সিকমার্কা বাদেই বিশ্বাসী না। আমি ইনসাফে বিশ্বাস করি। এর সাথে এটাও বিশ্বাস করি কাউকেই যথেচ্ছ লাইসেন্স দেয়া যায় না, জবাবদিহিতাহীনভাবে ছেড়ে দেয়া যায় না। আজকে যারা নারীবাদের দিকে ঝুকছে, তাদের সমালোচনার আগে একবার নিজেদের ত্রুটি-অসম্পূর্ণতা দিকে তাকিয়ে দেখুন, আপনি বা আমিই তাদের সে পথে ঠেলে দিচ্ছি কি না, আমাদের কোন আচরণ জালিমের মতন হচ্ছে কি না, আমাদের ত্রুটিগুলোই অন্য একটা ইজম তৈরিতে বা শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে কি না। সমাজে দীর্ঘদিন ধরে কোন অসংগতি বা অত্যাচার চলে আসলে একসময় সেটার একটা কাউন্টারপার্ট হাজির হবেই, সেটা ভালো হোক বা মন্দ। সেটার জন্য বেশি যেটা জরুরি তা হচ্ছে আত্মসমালোচনা, আর ইনসাফের পথ খোজা। আমাদের তাতে আগ্রহ কম, আমরা নিজেদের মতের-পথের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে ব্যস্ত!

লেখক ও কলামিস্ট

সানরা মনি



All Bangla Newspaper
ফেসবুকে আমরা

error: Content is protected !!