বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোষণা :

বাল্যবিয়ে দুই শিশুর সাজা: ক্ষমা চাইলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক

বাল্যবিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনোর আটপাড়া উপজেলায় দুই শিশুকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারি কমিশনার(ভূমি) রাজিয়া সুলতানা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে আর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে অঙ্গীকার করা হয়েছে। ওই সাজার ঘটনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিল করা লিখিত ব্যাখ্যায় ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চাওয়া হয়। এর একটি কপি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের মাধ্যমে হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য থাকলেও শুনানি হয়নি। আজ বৃহষ্পতিবার শুনানি হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতে দায়িত্বরত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হাইকোর্ট গত ৫ আগস্ট এক আদেশে সংশ্লিস্ট ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারকের দেওয়া ব্যাখ্যার কপি আদালতে দাখিল করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এই নির্দেশে সংশ্লিস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের দাখিল করা লিখিত ব্যাখ্যার সত্যায়িত কপি হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে।

প্রেমের সম্পর্কের জেরে পারিবারিকভাবে গত পহেলা আগস্ট নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার শ্রীরামপাশা গ্রামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর(১৫ বছর) সঙ্গে সমবয়সী মহেশ্বরখিলা গ্রামের একজনের বিয়ের আয়োজন করা হয়। এই বিয়ের খবর পেয়ে সহকারি কমিশনার(ভূমি) রাজিয়া সুলতানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পুলিশ পাঠিয়ে তাদের আটক করে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে একমাস করে সাজা দেন। এরপর তাদের গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এঘটনা নিয়ে গত ৪ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে দণ্ড’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ই-মেইলে চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তাদের মুক্তির নির্দেশনা চাওয়া হয় ওই চিঠিতে। কারো মুক্তির জন্য কোনো বিচারপতির কাছে চিঠি দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম। এই চিঠি পাবার পরই গত ৪ আগস্ট হাইকোর্ট শিশু দুটিকে তাৎক্ষনিক মুক্তির নির্দেশ দেন। এই আদেশের বিষয় নেত্রকোনার জেলা প্রশাসককে জানাতে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও বিশেষ কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মো. সাইফুর রহমানকে নির্দেশ দেন আদালত। এই নির্দেশ পেয়েই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেন সাইফুর রহমান। এরইমধ্যে ওই শিশুদের মামলা নিষ্পত্তি করে তাদের মুক্তি দেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। একইসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চান। সংশ্লিস্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারি কমিশনার(ভূমি) রাজিয়া সুলতানা গত ৮ আগস্ট তার লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন। তাতে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান তিনি।

একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা ঘটবে না বলে অঙ্গীকার করেন। যদিও লিখিত ব্যাখ্যা তিনি নিজেই পুলিশসহ ছেলের বাড়িতে উপস্থিত হন বলে উল্লেখ করেছেন। ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়েছে, ছেলে ও মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদের পিতার কেউই বিয়েতে রাজি ছিল না। এনিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ স্থানীয় জনতা সালিশ বৈঠক ডাকলেও সেখানেই ছেলে ও মেয়ে আত্মহত্যার হুমকী দেয়। এরপর বাধ্য হয়ে তাদের অভিভাবকরা বিয়ের আয়োজন করে।



All Bangla Newspaper
ফেসবুকে আমরা

error: Content is protected !!