বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোষণা :

লঞ্চ থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগটি বানিয়ে বলেছিল শিশুরা

অনলাইন ডেস্ক ::- ভাড়া না দেওয়ায় মুন্সিগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ৪ শিশুকে লঞ্চ থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগটি পুলিশের কাছে বানিয়ে বলেছিল শিশুরা। ঘটনায় নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় পুলিশের উদ্ধার করা শিশু মেহেদুল এবং অপর দুই শিশু সিয়াম ও তরিকুল নিজেরাই বিষয়টি স্বীকার করেছে।

মূলত চার শিশুর একজন, শাকিব একজনকে নদীতে ফেলে দেওয়ার পর বাকি ৩ জন নিজেরাই নদীতে লাফিয়ে পড়েছিল। পরে ভাসমান অবস্থায় পুলিশ শাকিব ও মেহেদুলকে উদ্ধার করলে পুলিশের কাছে বিষয়টি লুকাতে শাকিব ও মেহেদুল মিথ্যা অভিযোগ করে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও যমুনা টিভির হাতে এসেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ভাসমান অবস্থায় পুলিশের উদ্ধার করা দুই শিশুর মধ্যে মেহেদুল (১৩) ও অপর দুই শিশু সিয়াম (১০) ও তরিকুল (১০)।

ভিডিওতে সিয়াম জানায়, সদরঘাট থেকে তারা লঞ্চে উঠেছিল। সেখান থেকে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে কাছে পৌঁছে মাজ নদীতে যাত্রী ওঠা-নামা করা ট্রলার যোগে তাদের পাড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। শেষপর্যন্ত চাঁদপুরের অভিমুখে চলতে থাকা লঞ্চ থেকে সঙ্গীদের নদীতে লাফ দিতে বলে শাকিব। তবে কেউ লাফ না দিলে শাকিব তাদের মধ্যে থাকা তরিকুলকে নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর একে একে নদীতে ঝাপ দেয় অপর তিনজন। সিয়াম ও তরিকুল সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ভাসতে থাকে মেহেদুল ও শাকিব।

গজারিয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া শিশু মেহেদুল জানান, নদীতে ভাসমান অবস্থায় পুলিশকে দেখে শাকিব তাদেরকে লঞ্চের স্টাফরা নদীতে ফেলে দিছে বলে পুলিশের কাছে বলতে শিখিয়ে দেয়।

ভিডিওতে শিশুরা আরও জানায়, লঞ্চের স্টাফ ও পুলিশ কেউ তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেনি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের নৌপুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা বলেন, এটা আমলযোগ্য অপরাধ, মানুষকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। নিয়ম হচ্ছে মামলাটি নিয়ে নেওয়া। অভিযোগটি গুরুতর ছিল, তাই মামলা নেওয়া হয়েছে। এখন যদি ওরা (শিশুরা) মিথ্যা কথা বলে থাকে তবে তারও ব্যবস্থা আছে। তদন্তে যদি বের হয়ে আসে, তারা মিথ্যা বলেছে তাহলে সে অনুযায়ী রিপোর্ট দেওয়া হবে। যদি সত্য বলে থাকে তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জে মেঘনা নদীতে ভাসমান অবস্থায় শাকিব (১২) ও মেহেদুল (১৩) নামের দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। উদ্ধারকৃত শিশুরা এসময় দাবি করে, পানি বিক্রির জন্য রাজধানীর সদরঘাট থেকে ‘ইমাম হাসান-৫’ নামের একটি লঞ্চে উঠেছিল তারা। ভাড়া না দেওয়ায় তাদের মেঘনা নদীতে ফেলে দেন লঞ্চের স্টাফরা। প্রথম থেকেই লঞ্চ ‘ইমাম হাসান-৫’ এর মাস্টার দেলোয়ার হোসেন ও অন্যান্যরা ফেলে দেওয়ার বিষয়টি অসত্য হিসেবে দাবি করছিল।

অন্যদিকে নদী থেকে শিশুদের উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় রবিবার (১২আগস্ট) মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর নৌপুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. লুৎফর রহমান বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা এজাহারে উল্লেখ্য করা হয়, ‘এমভি ইমাম হোসেন-৫’ লঞ্চের অজ্ঞাত স্টাফগত ৪ শিশুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাক্কা দিয়ে মেঘনা নদীতে ফেলে দেয়।



All Bangla Newspaper
ফেসবুকে আমরা

error: Content is protected !!