সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোষণা :

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারদের টেস্ট বানিজ্য |

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ব বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেয়া স্বত্ত্বেও বন্ধ হয়নি টেস্ট বানিজ্য। খোদ চিকিৎসকই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে কোন ক্লিনিকে করতে হবে তা বলে দেন। আবার অফিস চলাকালীন সময়েই সেই ক্লিনিকে গিয়ে রিপোর্ট দেখে বাড়তি ফি গ্রহন করেন।

অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ থাকলেও চড়ামূল্যে বাইরের ক্লিনিকে এসব টেস্ট করতে রোগীদের বাধ্য করা হচ্ছে।

এমনই একজন চিকিৎসক পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বহিঃবিভাগে দায়িত্বরত মোঃ জাহিদুল ইসলাম উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো)। তার মূল কর্মস্থল জেলার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র। কিন্তু তিনি ১৯.০২.২০১৯ তারিখ থেকে প্রেষনে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।

৩০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহিঃবিভাগে ৮ মাসের শিশু সন্তান মোঃ আবু ইনানের জন্য চিকিৎসা নিতে গিয়ে এই চিকিৎসকের ফাঁদে পড়েন সুরাইয়া বেগম। তিনি প্রতিবেদককে জানান, বাচ্চার সর্দি-জ্বর হওয়ায় তিনি হাসপাতালে স্বল্প খরচে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন কিন্তু ওই চিকিৎসক তাদের তিনটি রক্ত পরীক্ষা করতে স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিকে পাঠিয়েছেন। সেখানে পরীক্ষা করতে তাদের ১ হাজার ৮’শ টাকা লেগেছে। ওই রোগীর সাথে থাকা রুকাইয়া বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে গেছি কম টাকায় চিকিৎসা করাতে কিন্তু ডাক্তার বাইরে টেস্ট করতে দেছে। শুনছি সরকারি হাসপাতালে কম টাকায় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় তয় আমাগো বাইরে পাঠাইলো ক্যান।

মোঃ হাফিজুর ইসলাম (৮)কে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা তার ফুপু মোসাঃ হামিদা বেগম বলেন, হাসপাতালের ডাক্তার দেখাইছি সে হাফিজুরের প্রস্রাব টেষ্ট (পরীক্ষা) করাতে স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এন্ড ক্লিনিকে পাঠাইছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেইখানে অপেক্ষা করার পরে তিনি সেখানে গিয়ে ফিÑএর বিনিময়ে রিপোর্ট দেখে ব্যাবস্থাপত্র দেন। আমরা গরীব মানুষ ফ্রি চিকিসার লইগ্যা হাসপাতালে গেছি আর উনি আমাগো ঠকাইয়া টাকা নেছে।

৯ মাসের শিশু ওবায়দুলের মা আমেনা বেগম জানান, আমার বাচ্চাকে টেস্ট লিখে দিয়ে ডাক্তার স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান। আমরা হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে চাইলে ডাক্তার বলেন এই টেস্ট হাসপাতালে হয়না এবং রিপোর্ট ভালো হয়না। পরে ক্লিনিকে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এক হাজার ৮’শ টাকা নেয়া হয়।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায় শিশু ওবায়দুলকে ওই চিকিৎসক ট্রিপল এন্টিজেন, সিবিসি এবং সিআরপি পরীক্ষা করতে দেন এর মধ্যে সিবিসি ও সিআরপি পরীক্ষা হাসপাতালে করা সম্ভব এবং ট্রিপল এন্টিজেনের বিকল্প হিসেবে ভিডাল পরীক্ষা করেও রোগ নির্ণয় করা যায় এবং এই পরীক্ষাটিও হাসপাতালে কম খরচে করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগীর অবিভাবক বলেন, স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা না করানোর কারনে মোঃ জাহিদুল ইসলাম আমাদের সাথে খারাপ আচরন করেছেন এবং রিপোর্ট দেখেননি। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান সহকারী জানান, মোঃ জাহিদুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অভিযোগ ছিল গত ২৫ সেপ্টেম্বর শনিবার অফিস চলাকালীন সময়ে (সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২.৩০মিঃ) তাকে স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দেখেছি যা হাসপাতালের পরিচালক মহোদয়কে জানানো হয়েছে। তিনি বারবার সাবধান করা স্বত্ত্বেও জাহিদ সংশোধন হননি।

এ বিষয়ে ডাঃ মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, কিছু টেস্ট (পরীক্ষা) আছে হাসপাতালে হয়না ওই সব টেস্ট করাতে রোগীদের ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে। চেম্বারে বসে রোগীদের কাছ থেকে ফি নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালের বাহিরে আমি কোন চেম্বারে বসিনা। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান মোঃ এনায়েত হোসেন জানান, হরমোন পরীক্ষার মেশিন এবং বায়োকেমিস্ট্রি পরীক্ষার একটি মেশিন নষ্ট। তাই কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা করা হয়। মেশিন আসলে সব পরীক্ষা সম্ভব হবে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল মতিন জানান, মোঃ জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। সুনিদৃস্ট প্রমাণ পেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।



All Bangla Newspaper
ফেসবুকে আমরা

error: Content is protected !!