সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোষণা :

বদলগাছীর কোলা ইউপি সচিব আঞ্জুমান আরার বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ 

“” জাল রশিদ দিয়ে অর্থ আদায়-বিভিন্ন সেবার সরকারি নির্ধারিত ফির  অতিরিক্ত টাকা নেওয়া  ও সেবা নিতে আসা সাধারণ  মানুষের সাথে অসাদআচারণের অভিযোগ “”
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ- নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ৫নং কোলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আঞ্জুমান আরা এবং সহকারী সচিব সম্রাট হোসেন এর বিরুদ্ধে জাল রশিদ দিয়ে টাকা নেওয়া,   ট্রেড লাইসেন্স, টাক্স রশিদসহ মৃত্যু সনদ ও জন্ম নিবন্ধন প্রদানে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নানান  সেবার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঐ ইউনিয়ন স্থানীয় বাসিন্দারা সহ  কোলা ইউপির একাধিক  সদস্যগণ।
কোলা ইউপি সদস্য নাজমুল হক, জাহাঙ্গীর আলম (উজ্জল), হারুন অর রশীদ বলেন, আমার ৪নং ওয়ার্ডের একজন ব্যাক্তি,সচিব আঞ্জুমান আরার,কাছে মৃত্যু সনদ নিতে গেলে সচিব,জাল রশিদের মাধ্যমে ৭শত টাকা নিয়ে মৃত্যু সনদ প্রদান করেন। সচিব ও সহকারি সচিব এখানেই শেষ নয়। তিনি বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্রের নামে জাল রশিদ তৈরী করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জালবহি নং ২৭২৫জাল, ক্রমিক  নং২৭৫৬. রশিদের মৃত্যু সনদ এর জন্য ৬০০টাকা এবং ক্রমিক  নং২৭৫৫ মৃত্যু সনদ রশিদের জন্য ৪৫০ টাকা গ্রহন করা হয়েছে।
সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, রবিউল ইসলাম এবং মুমিন হোসেন বলেন, জন্ম নিবন্ধন নিতে আবেদন করতে ৫০টাকা ফি নেওয়ার কথা থাকলেও  সচিব অতিরিক্ত টাকা নেয়।  সচিবের কাছে নিবন্ধন নিতে গেলে সচিব এতো খারাপ আচরণ করেন যা ভাষায় বলে প্রকাশ করা যাবে না। তবে কিছু বলার নাই কারন সে সরকারি চাকরি করেন তাদের দাম আলাদা বলে মনে করেন তাঁরা।
আমি তাঁর কাছে নিবন্ধন এর কথা বললে তিনি আমাকে দুইটি নিবন্ধন নিতে ৬শত টাকা দিতে বলেন। আর তা না হলে আপনে আসতে পারেন বলে তিনি চেয়ারে বসেন অনেক কাজ আছে জান পরে আসেন।
জন্ম নিবন্ধন সনদ নিতে এসে ভোক্তভোগী     সেলিনা আক্তার,সৌদিয়া আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে  তারা সচিব আঞ্জুমান আরার মুখের উপরে অভিযোগ করে বলেন, ছেলে মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করতে হলে এখন জন্ম নিবন্ধন সনদ স্কুলে জমা দিতে হয়। এই জন্য ইউনিয়নের সচিব প্রতিটি জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য ৩৫০টাকা করে আদায় করছেন। ৭শত টাকা তাঁর হাতে পাওয়ার পরে তিনি আমাকে দুইটি জন্ম নিবন্ধন দিয়েছে।
অন্যদিকে কয়াভবানীপুর গ্রামের সৌদিয়া আক্তার বলেন,আমি একটা জন্ম নিবন্ধন এর জন্য ৪শত টাকা দিয়েছি।
জুলেখা বেগম বলেন, আমি একজন অসহায় গরিব মানুষ অনেক কষ্টে ছেলে মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করে পড়াশোনা করাচ্ছি । কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি জন্ম নিবন্ধন নিতে আমাদের মত একজন অসহায় পরিবারের পক্ষে ২৬০ টাকা দিয়ে জন্ম নিবন্ধন নিতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ কাউকে কিছু বলতে গেলে হয়তো আরও বিপদে পড়তে পারি এই জন্য ২৬০টাকা দিয়ে জন্ম সনদ নিয়ে যাচ্ছি।
৫নং কোলা ইউপি সচিব আঞ্জুমান আরা বলেন, আমি জন্ম নিবন্ধন সনদের আবেদন করতে ৫০টাকা এবং নিবন্ধন সনদ দিতে ১শত টাকা নিয়েছি। কিন্তু একথা বলতেই কয়েক জন ব্যাক্তি বলেন তাহলে আমাদের থেকে ৩শত৫০টাকা নিলেন বাঁকী টাকা ফেরত চাইলে তিনি আর কথা বলেন না এবং সাথে সাথে নিবন্ধন সনদ দেয়া বন্ধ করেন। এসব বিষয়ে আপনে চেয়ারম্যান এর সাথে কথা বলেন। এবিষয়ে  পরে তাকে ফোন করলে সচিব ফোন রিসির্ভ করেননি ।
৫নং কোলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম স্বপন বলেন, আমি সরকারি বিধিমত কাজকর্ম করতে বলেছি। তবে সচিব যদি জাল রশিদ তৈরী করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকে তাহলে সেটার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। চেয়ারম্যান হিসাবে আমি বারবার তাকে বলেছি সুষ্ঠও সঠিক ভাবে সরকারি বিধি নিষেধ মত কাজ করবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসার আলপনা ইয়াসমিন এর সাথে মুটোফোন এ
যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
উপপরিচালক স্থানীয় সরকার নওগাঁ উত্তম কুমার রায় বলেন, কোনো ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাইনি  তবে সচিবও সহকারী সচিবের  বিরুদ্ধে অনিয়ম ও কাগজ জাল  করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।#



All Bangla Newspaper
ফেসবুকে আমরা

error: Content is protected !!