মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পটুয়াখালীতে প্রগতি লেখক সংঘের কবি আড্ডা অনুষ্ঠিত গলাচিপায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আহসানুল হক তুহিন পুনরায় নির্বাচিত খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং বিএনপির লোকেরাই করতে পারে : কাদের নৌকার বিপক্ষে একটা ভোট গেলে লাশ পড়বে ৫টা, ছাত্রলীগ নেতার হুমকি জয়পুরহাট-সহ উত্তরের জেলা গুলোতে জেঁকে বসেছে শীত ও ঘন কুয়াশা! নওগাঁয় ভোটের মাঠে চেয়ারম্যান পদে পঞ্চমুখী লড়াই  ডিমলা উপজেলার কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী  গলাচিপা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর সমর্থনে কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগের জনসংযোগ।  লক্ষ্মীপুরে বাবা চেয়ারম্যান, চার ভাইবোন হতে চান মেম্বার ‘মু‌জিব কোট খুইল্লা ও‌সিরে গুতাই‌ছি’
ঘোষণা :

কোম্পানীগঞ্জের রনিখাই ইউনিয়ন নৌকার মাঝি শিবির নেতা!

‘সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পাওয়া ইকবাল হোসেন ইমাদ শিবিরের নেতা ছিলেন। জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। দিতেন চাঁদা।

এছাড়া নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা টাক তিনি জামায়াত-শিবিরের প্রতিষ্ঠান গ্রাম বাংলা অ্যাসোসিয়েট থেকে নিয়েছেন।’ বৃহস্পতিবার সিলেটে সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়নের পূর্ণা ছগাম গ্রামের সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের শেষ দিকে খোলস পাল্টে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাসিমকে ম্যানেজ করে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন ইমাদ। ২০১৯ সালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য হন। সে সময় তৃণমূলের তীব্র প্রতিবাদের পরও সভাপতি আব্দুল হাসিম বিষয়টি এড়িয়ে যান। সর্বশেষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাসিমকে ম্যানেজ করে দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা চান। আর কেন্দ্র ইমাদকেই নৌকার প্রার্থী হিসাবে মনোনীত করেছে।

KAZITV

সাইফুল জানান, দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়নের খাগাইল গ্রামের মো. আব্দুস সালামের ছেলে ইমাদ ২০০৪ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত হন। ২০০৬ ও ২০০৭ সালে কোম্পানীগঞ্জ থানা শিবিরের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। বিষয়টি শিবিরের সাংগঠনিক ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। ইকবাল হোসেন ইমাদ ২০১০ সালের মার্চে যুক্তরাজ্য যাওয়ার আগ পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যুক্তরাজ্যে থাকা অবস্থায় ইমাদ তার ব্যবহৃত Ikbal H. Imad নামক আইডি থেকে নিয়মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কটূক্তি করে নানা পোস্ট দিতেন। ২০১৬ সালে দেশে ফিরে ইমাদ জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। এ সংক্রান্ত একাধিক ছবি রয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী এ দলের অর্থ তহবিলে অনেক টাকা-পয়সা দিয়েছেন। যার একটি রসিদও রয়েছে। এছাড়া জামায়াত-শিবিরের প্রতিষ্ঠান গ্রাম বাংলা অ্যাসোসিয়েট থেকে বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে ইমাদ নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আব্দুস সালাম অটোব্রিক্সে বিনিয়োগ করেছেন।

সাইফুল ইসলাম বলেন, নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর তৃণমূল আওয়ামী লীগে যখন নিন্দা ও সমালোচনা ঝড় ওঠে তখন তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন করে ইকবাল হোসেন ইমাদ বেশ কিছু মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেন।

জানা যায়, এসএসসি ও দাখিল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিতে ২০০৯ ও ২০১০ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখা যে পুস্তিকা বের করে; সেখানে ইমাদের নাম আছে। বইয়ে শিবিরের উপজেলা সেক্রেটারির তালিকা দেওয়া আছে। তাতে দেখা যায়, ২০০৭ সালে তিনি এই উপজেলা শিবিরের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ছিলেন। ২০১৮ সালেও ইমাদ শিবিরকে ৫০০ টাকা ইয়াতন বা চাঁদা দিয়েছেন। সেই চাঁদার রসিদও পেয়েছে যুগান্তর। প্রতিবেদকের হাতে এসেছে ২০১৭ সালের দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়ন জামায়াতের একটি অনুষ্ঠানের ছবি। তাতে জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে দেখা গেছে ইকবাল হোসেন ইমাদকে। ইমাদের কোম্পানীগঞ্জ শিবিরের সেক্রেটারির দায়িত্বে থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন ২০০৭ সালে উপজেলায় ছাত্র সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা শফিকুর রহমান। বর্তমানে শিক্ষকতা পেশায় থাকা শফিকুর বলেন, আমি সভাপতি থাকাকালে ইমাদ সেক্রেটারি ছিলেন। এখন তিনি কেন অস্বীকার করছেন তা জানি না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ইকবাল হোসেন ইমাদ বলেন, যখন আমি আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ পাই, তখন কেউ এসব কথা বলেনি। এখন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমি কেন, আমার পরিবারের কেউই জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে কোনো দিনও যুক্ত ছিলেন না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সবকিছু আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। আমি কখনও শিবির করিনি।



All Bangla Newspaper
ফেসবুকে আমরা
error: Content is protected !!