শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোষণা :

বদলগাছীতে সুই সুতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ তোষক কারিগররা

প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে লেপ তোষকের ব্যবহার।

খালিদ হোসেন মিলু বদলগাছী( নওগাঁ) :- ভোরে কুয়াশা, সকালে ঠাণ্ডা হিমেল হাওয়া ঘাসের ডগায় শিশির কণা আর দুপুর গরিয়ে বিকেলে মিষ্টি রোদের খেলা আর সন্ধ্যায় মৃদু শীতের অনুভুতি চারিদিকে জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা  । দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে রাত শেষে ভোরের আলো ফোটতেই দেখা মিলছে কুয়াশাচ্ছন্ন চারদিক। শরীরে অনুভূত হচ্ছে ঠান্ডা অনুভূতি। দিনের বা রাতের প্রথমাংশে বেশ গরম কিংবা শীত অনুভূত না হলেও মাঝ রাতে ঠিকই কাঁথা মুড়িয়ে ঘুমোতে হয়  বরেন্দ্র অঞ্চল নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার প্রায় এলাকা গুলোতে। এই এলাকায় নতুন করে শীত পড়তে থাকায় লেপ-তোশক কিনতে শুরু করেছেন এলাকার মানুষ।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার  উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ও বাজার গুলো ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা ৮টি ইউনিয়নের প্রায় এলাকাতে  আগে-ভাগেই শীতের উষ্ণতা বেড়েছে। শীতে প্রাচীন কাল থেকেই লেপ, তোষক ও কম্বলের জুড়ি নেই। ক্রেতাদের চাহিদার যোগান দিতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন উপজেলার বিভিন্ন লেপ-তোষক কারিগরগণ। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নিত্য-নতুন অনেক ধরনের শীত বস্ত্র বাজারে থাকলেও লেপ ও তোষক ব্যবহারে বাড়তি আগ্রহ রয়েছে সবার মাঝে। কারণ প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে লেপ তোষকের ব্যবহার। বলতে গেলে এটা হচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্য। উপজেলায় বেশ কয়েকটি বড় বাজার রয়েছে। প্রতিটি বাজারেই একাধিক  দোকান রয়েছে লেপ-তোষকের। এ নিয়ে বিভিন্ন বাঁজার গুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, কারিগররা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী যোগান দিতে ব্যস্ত । দিন দিন ক্রেতাদের চাপ বেড়েই চলছে। সময়মত পণ্য সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কারিগরদের। এছাড়া পুরাতন কাজের চাপ তো আছেই। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন এলাকার ছোটবড় সকল কারিগররা। এখন দম ফেলার যেন সময় নেই তাদের।
বদলগাছী উপজেলার  সদর, গোবরচাপা, পাহাড়পুর, মিঠাপুর, ভান্ডারপুর, কোলা, পাড়সোমবাড়ী, দ্বীপগঞ্জ, শ্রীরামপুর বাজারসহ সকল বাজারেই শীতের পোশাক বিক্রির চাহিদা বেড়েছে। ব্যাবসায়ীরা দোকানে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী শীতের কম্বলও রেখেছেন। লেপ-তোশক কারিগর শফিকুল  বলেন, ধীরে ধীরে শীত বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ভোরে কোয়াশা দেখা দেয়। শেষ রাতের দিকে খুব ঠান্ডা পড়ে এদিকে। তাই অনেক ক্রেতারা এই ঠান্ডা নিবারনের জন্য লেপ-তোষক বানাতে আসছেন আমাদের কাছে। এছাড়া আমরা ক্রেতাদের কথা ভেবে আগাম বেশকিছু লেপ-তোষক বানিয়ে রাখার পাশাপাশি তুলা কিনে রেখেছে ব্যবসায়ীরা।
লেপ-তোশক কারিগর আলম বলেন, প্রতিদিন আমি ৫টি লেপ-তোশক তৈরী করি। প্রতিটি লেপ-তোশকের আজোরা মূল্যে ২৫০টাকা করে নিয়ে থাকি। মাসুস মলেন প্রতিদিন গড়ে  এক হাজার থেকে  ১২শত টাকা লেপ-তোশক তৈরি করে উপার্জন করে থাকি।
উপজেলার কোলা বাজারের লেপ-তোশক বিক্রেতা জুয়েল বলেন, শীতে মৌসুমে প্রচুর লেপ-তোশক বিক্রি হয়। তুলা ভেদে বিভিন্ন মানের লেপ-তোশক  মূল্যে বিভিন্ন হয়ে থাকে। ১৫শত থেকে ২হাজার টাকা মূল্যে  পর্যন্ত লেপ-তোশক বিক্রি করা হয়ে থাকে। শীতের ঠাণ্ডার প্রকোপ বাড়লে আর বেশি বিক্রি হবে ।



All Bangla Newspaper
ফেসবুকে আমরা
error: Content is protected !!